দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী কিয়েভে দুজন, উত্তরাঞ্চলীয় শহর প্রিলুকিতে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলে দুজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেতস বলেন, রাতভর আবারও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে ইউক্রেন।
তিনি বলেন, আরেকটি নির্ঘুম রাত পার করতে হয়েছে মানুষকে। এরপরও সবকিছু উপেক্ষা করে তাদের কর্মদিবসের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন ও ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ১৬১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
কিয়েভ ও পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য। রাতভর রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক-শিল্প স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য উচ্চনির্ভুলতার অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কিয়েভ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বল্প ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণের স্থাপনাও ছিল।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, দেশটি যুদ্ধে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শরৎকালের মধ্যে ফায়ার পয়েন্টের আরও দীর্ঘপাল্লার এফপি-৯ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মস্কো পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই অন্তত চারজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। হামলার সতর্কতা জারির পর কিয়েভের অনেক বাসিন্দা শহরের গভীর ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
কিয়েভের ৪৯ বছর বয়সী বাসিন্দা লেসিয়া রয়টার্সকে বলেন, তারা নবম তলায় থাকেন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সেখানে থাকা খুবই ভয়ংকর হওয়ায় মেট্রো স্টেশনেই আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ মনে হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রো শহরে রাতভর বিমান হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামো এবং ক্রেমেনচুকের কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতির মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলেনস্কিসহ দেশটির কর্মকর্তারা পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/